বন্ধ হতে পারে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তোলন

দুই বছরের সর্বোচ্চে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো যেকোনো সময় জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন বন্ধ করে দিতে পারে।

কাতারের এমন সতর্কবার্তায় বিশ্ববাজারে পণ্যটির দাম দুই বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম শুক্রবার বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর বিবিসি।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গত শুক্রবার ব্যারেলে ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৯৩ ডলারে, যা ২০২৩ সালের শরতের পর সর্বোচ্চ। জ্বালানি পণ্যটির আকস্মিক এ মূল্যবৃদ্ধি শুধু পরিবহন খাতেই নয়, বরং বৈশ্বিক খাদ্যপণ্য, হিটিং পদ্ধতি ও আমদানীকৃত পণ্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় অর্থনীতিগুলোয় যেখানে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী ছিল, সেখানে নতুন করে দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হলে বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সব জ্বালানি রফতানিকারক দেশ কয়েক দিনের মধ্যে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। যদি তা হয় তাহলে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।’

কাতারএনার্জি জানিয়েছে, কোম্পানিটির এলএনজি স্থাপনায় হামলার পর ফোর্স মেজার বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট দৈনিক জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ সংকীর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে গেছে। যদিও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিকল্প পাইপলাইন রয়েছে, তবে এ অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত হবে না।

নরওয়েভিত্তিক বৈশ্বিক জ্বালানি গবেষণা ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান রাইস্টাড এনার্জির সিনিয়র বিশ্লেষক হোর্হে লিওন বর্তমান পরিস্থিতিকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ‘প্রকৃত ঝুঁকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যদি জ্বালানি তেল রফতানি করতে না পারে, তবে এ দেশগুলোর মজুদক্ষমতা দ্রুত ফুরিয়ে আসবে এবং উত্তোলন বন্ধ করতে বাধ্য হবে। এ সংকট কতদিন স্থায়ী হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।

আরও